পাতা

চেয়ারম্যান এর বাণী

 

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম।

বিদ্যুৎ সভ্যতার চাবিকাঠি এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথিকৃত। এ বাস্তবতাকে উপলব্ধি করে দেশের গ্রামীন জনগনের জীবনমান ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ৩১ শে অক্টোবর ১৯৭৭ সালে মহামান্য রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ বলে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়। সমবায়ের সার্বজনীন নীতিমালা এবং ‘‘লাভ নয় লোকসান নয়’’ এ দর্শনের উপর ভিত্তি করে এবং গ্রাহকগণকে সমিতির প্রকৃত মালিকানার স্বীকৃতি দিয়ে এ যাবত দেশের ৪৯০ টি উপজেলার সমন্বয়ে ৭৯ টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গঠিত হয়েছে।

পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের আওতাভূক্ত এলাকায় ডিসেম্বর-২০১৩ খ্রিঃ পর্যন্ত নির্মিত লাইন ২,৪৬,৩৭২ কিঃমিঃ এবং অক্টোবর-২০১৬ খ্রিঃ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৩,১৯,৭০৮ কিঃমিঃ এ অর্থাৎ বর্তমান সরকারের আমলে ৭৩,৩৩৬ কিঃমিঃ নতুন লাইন নির্মাণ করে ৬৫.১৩ লক্ষ বিভিন্ন শেণির গ্রাহককে সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। একই সময়ে নতুন ২২৪ টি নতুন ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র নির্মান করে উপকেন্দ্রের সংখ্যা ৭৬৩ টিতে উন্নীতকরণসহ উপকেন্দ্রের মোট ক্ষমতা ৫,২০০ এমভিএ হতে ৮,০৯৫ এমভিএ-তে উন্নীত করা হয়েছে। এ সকল অবকাঠামোর মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৬৭,২৯৫ টি গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। সংযোগকৃত গ্রাহকের মধ্যে প্রায় ১.৫৭ লক্ষ শিল্প সংযোগ ও ৩.১ লক্ষ সেচ সংযোগ রয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন বিপুল পরিমানে গ্রামীন জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনের ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে অন্যদিকে তেমনি অধিক ফসল উৎপাদনে পল্লী বিদ্যুতায়ন কর্মসূচী প্রভুত অবদান রেখে চলেছে। ১ কোটি ৪৫ লক্ষ ৬৮ হাজার আবাসিক সংযোগ প্রদানের ফলে আনুমানিক ৬ কোটি ৪৫ লক্ষ মানুষ পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে বিদ্যুতের সুবিধা ভোগ করছেন। পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের ইতিবাচক প্রভাব বিদ্যুতায়িত এলাকার সকল ক্ষেত্রে সুষ্পষ্টভাবে প্রতিভাত হচ্ছে।

পল্লী অঞ্চলের জনসাধারনের একাংশ যেমন বিদ্যুতের আলোকে উদ্ভাসিত হয়েছেন, অন্য অংশ যারা বিদ্যুতের সুবিধা প্রত্যাশী তারা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিসমূহে বিদ্যুৎ প্রাপ্তির সম্ভবনার বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। তাঁদের চাহিদার প্রতি আমরা সচেতন। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্ভাবনী উদ্যোগ “ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ” কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ডিসেম্বর-২০১৫ থেকে উপজেলা ভিত্তিক শতভাগ এলাকা পর্যায়ক্রমে বিদ্যুতায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ২০১৮ সাল নাগাদ যাতে সকল উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা যায় সে জন্য গৃহীত পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতি মাসে যে হারে সংযোগ প্রদান করা হচ্ছে তা বিদ্যমান থাকলে এ পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা আমাদের পক্ষে সহজতর হবে।

জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসাবে সকল শ্রেণির গ্রাহকদের বক্তব্য শ্রবন করে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। গ্রামীণ জনগনের মুখে হাসি ফুটানোর জন্যই এ কার্যক্রমের সূচনা করা হয়েছিল। সে হাসি যেন ম্লান না হয় সেদিকে আমাদের সর্বদা সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যক্রম পরিচালনার সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সততা ও একনিষ্ঠতা বজায় রাখতে হবে। গ্রাহকদের সুবিধার্থে টেলিটকের ২৩,৬৩০ টি সংগ্রহ পয়েন্ট থেকে এসএমএস-এর মাধ্যমে ১ কোটি ৫৯ লক্ষ ৬৯ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল আদায়ের কার্যক্রম অব্যাহত আছে। ফলে গ্রাহক কোনরূপ ভোগান্তি ছাড়াই দিবা-রাত্রি ২৪ ঘন্টা তাদের সুবিধামত জায়গা থেকে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের সুযোগ পাচ্ছেন।

আমি অবগত হয়েছি যে, “চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২” বিগত ১৪ই ডিসেম্বর ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ বিতরণ শুরু করে এবং ২৭ মে ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ তারিখে “চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২” নামে বিভাজিত হয়। এ সমিতিতে নভেম্বর ২০১৬ খ্রিঃ পর্যন্ত ৩,৬০২.৪৬ কিঃমিঃ লাইন নির্মাণ করে মোট ২,২৪,০০২ জন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। বিগত বৎসর সমূহে খুচরা বিক্রয় মুল্যের তুলনায় পাইকারী বিক্রয় মুল্যের হার অধিকতর হওয়ায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পরিচালনায় আর্থিক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ সমস্যা উত্তরণের জন্য বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তরফ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রয়েছে। সিষ্টেম লস্‌ হ্রাস করে ও বিদ্যুতের চুরি/অপচয় রোধ করে পরিচালন ব্যয়ের ঘাটতি মোকাবিলার লক্ষ্যে সমিতির কর্মকর্তা/কর্মচারী/বোর্ড পরিচালক/গ্রাহক সদস্যবৃন্দকেও সম্মিলিত প্রচেষ্টা গ্রহন করতে হবে।

আজকে সমিতির সর্বসত্মরের গ্রাহক সদস্যদের উন্নত সেবা প্রদান, গ্রাহকদের সমস্যার সমাধান এবং অধিক সংখ্যক গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করার চেতনায় সকলের সমন্বিত দৃপ্ত অঙ্গিকার ঘোষিত হবে- এ কামনা করছি। গ্রাহক সদস্যগণকে আহ্বান জানাচ্ছি যেন সমিতির উত্তরোত্তর উন্নয়নে স্ব স্ব ক্ষেত্র থেকে তাঁরা সকল সময়ে সহযোগিতার হাত প্রসারিত রাখেন।

আমি চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ ২য় বার্ষিক সদস্য সভার সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করছি এবং সমিতির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির জন্য মহান আল্লাহ্‌ তায়ালার রহমত কামনা করছি।

 

মেজর জেনারেল মঈন উদ্দিন
চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড

ছবি


সংযুক্তি



Share with :

Facebook Twitter